জনপদ গ্রামীণ জনপদ শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ব্যাবসা-বানিজ্য-অর্থনীতি আমাদের প্রসঙ্গে

,

,

প্রচ্ছদ
Gaibandha.news image: 'হৃদয়ে রক্তক্ষরণ: অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলাম'-'

হৃদয়ে রক্তক্ষরণ: অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলাম

গাইবান্ধা ডট নিউজ | মঙ্গলবার ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯

সাগীর আলী শেখ:

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে গাইবান্ধা ডট নিউজ এর বিশেষ আয়োজন ডিসেম্বর মাসজুড়ে প্রতিদিন একটি করে ৭১র মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গাইবান্ধার নানা ঘটনার স্মৃতিচারন - হৃদয়ে একাত্তর

ঘটনার দিন আমাকে সকালবেলা ধরে স্কুলের (কাশিয়াবাড়ী হাইস্কুল) মাঠে নিয়ে আসে। আমার আব্বা ও মেজো ভাইকেও তারা ধরে আনে। যাকে যেখানে পাচ্ছিল সেখান থেকেই ধরে আনছিল স্কুলের মাঠে। মেয়ে মানুষ ধরে এনে একটা ঘরে ভর্তি করে। যখন মোটামুটি মানুষ আনা শেষ হলো তখন ওরা চেয়ারম্যান সাহেবকে নিয়ে আসলো। তাকে বলল ভাল-মন্দ লোক বাছাই করে দিতে হবে। পাকিস্তানিদের চেহারা দেখে চেয়ারম্যান ভয়ে কাঁপতে লাগলেন। ওরা তাঁকে বলল - এর মধ্যে কি খারাপ লোক আছে? চেয়ারম্যান দুইবার ঘুরে এসে বললেন এরমধ্যে কোন খারাপ লোক নাই। সবাই ভাল। উনি বসার পরে সুলতানপুরের আবুবক্কর মওলানাকে ঐ দায়িত্ব দেয়া হলো। তিনি ঘুরে ফিরে দেখে এসে একই রকম উত্তর দিলেন।

তখন পাকিস্তানি এক সেনা সদস্য বেতের ছড়ি দিয়ে মওলানাকে পিঠে কয়েকটা আঘাত করল। ঐ মারের কিছুটা গিয়ে পড়ল শমেস মাস্টারের উপর। রাগ করে পরে ওরা নিজেরাই বাছাই শুরু করল। প্রথমে বাছাই করে আলাদা জায়গায় বসালো। তারপর শুরু করল ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে হিন্দু মুসলমান বাছাই। তারা বাছাই করা মানুষদের হাত শক্ত করে বাঁধলো। হাত বাঁধা অবস্থায় আমাদের মাঝখানে রেখে হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকাররা আমাদের দুইপাশে থাকলো, আর লুট করা গরু ও মালামাল পিছনে। ওইভাবে চতরা ঘোড়াঘাট রাস্তা দিয়ে দক্ষিণে চলা শুরু করল। রামচন্দ্রপুরের কাছে গিয়ে ওরা থেমে গেল। আমাদের নিয়ে গেল উঁচু ভিটায়। পাশেই ডোবার মত পুকুর। সারি করে বসালো সকলকে।

তারপর শুরু হলো মানুষকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে মারার প্রতিযোগিতা। তিনজনের পর আমাকে কোপ দিল। যখন ঘাড়ে রামদার কোপ মারল, তখন চোখমুখ অন্ধকার করে পড়ে গেলাম। একজন টাক মাথার খাটো লোক আমাকে দা দিয়ে কোপায়। ওইভাবে ৫-৭ জন মানুষ মারা দেখে জীবন বাঁচাতে মানুষগুলো হাতবাঁধা অবস্থাতেই ছোটাছুটি শুরু করলো। তখনই পাকিস্তানি সেনারা এলোপাতাড়ি গুলি চালালো। আমার গোটা শরীর মানুষের লাশের নীচে পড়ে গেল।

যখন আমার একটু জ্ঞান ফিরছে তখন মনে হলো আমার শরীরের উপর অনেকগুলো কাঠ রাখা হয়েছে। শরীরের রক্ত পড়ে অবশ হয়ে গেছে। আল্লাহপাক জানে কীভাবে ওই লাশ ঠেলে উঠে দাঁড়ালাম। দাঁড়িয়ে দেখি আমরা যেমন পাট কেটে স্তুপ করে রাখি তেমনি পুকুরে মানুষ মেরে স্তুপ করা হয়েছে। একটু আড়াল হওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু পরে মনে হল এখানে থাকা যাবে না। আবার যদি ওরা ফিরে আসে তবে আর বাঁচাবে না। তখন শরীরটাকে টেনে হেঁচড়ে বাঁশের ঝাড় আর পাটের জমির আড়াল দিয়ে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে গেলাম।

ভয়ে ভয়ে শুক্রবার জুমার নামাজের মানুষ আসা শুরু হয়েছে। আকবর নামে এক লোক আমার রক্তাক্ত দেহটা ধরার পরে আমি জ্ঞান হারাই। গ্রামে তো ডাক্তার নাই। চারদিন বাড়ির লোকজনের সেবায় ঐ অবস্থায় থাকলাম। চারদিন পর রাত ১২টার সময় নদীর ওপার থেকে রহমান ডাক্তারকে নিয়ে আসা হলো। সেলাই দিতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন ডাক্তার। ঔষধপত্র দিয়ে দুই মাসে আমার ক্ষতস্থান শুকালো। দুবেলা চিকিৎসা চলেছে। অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলাম। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেও আজ পর্যন্ত সরকারি কোন সহায়তা পেলাম না।

- সাগীর আলী শেখ, পলাশবাড়ীর কাশিয়াবাড়ী গণহত্যায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি।

অনুলিখন: জহুরুল কাইয়ুম।

 

কেআরআর/জিএআই



Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ছবি সংবাদ

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ফটো গ্যালারী

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ফটো ফিচার

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ভিডিও গ্যালারী

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ভিডিও প্রতিবেদন

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

সর্বশেষ খবর

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news image: 'হলি আর্টিজান হামলার রায় আজ, আদালত চত্বরে বিশেষ নিরাপত্তা'-'

হলি আর্টিজান হামলার রায় আজ, আদালত চত্বরে বিশেষ নিরাপত্তা

গাইবান্ধা ডট নিউজ | বুধবার ২৭ নভেম্বর ২০১৯

সাগীর আলী শেখ:

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে গাইবান্ধা ডট নিউজ এর বিশেষ আয়োজন ডিসেম্বর মাসজুড়ে প্রতিদিন একটি করে ৭১র মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গাইবান্ধার নানা ঘটনার স্মৃতিচারন - হৃদয়ে একাত্তর

ঘটনার দিন আমাকে সকালবেলা ধরে স্কুলের (কাশিয়াবাড়ী হাইস্কুল) মাঠে নিয়ে আসে। আমার আব্বা ও মেজো ভাইকেও তারা ধরে আনে। যাকে যেখানে পাচ্ছিল সেখান থেকেই ধরে আনছিল স্কুলের মাঠে। মেয়ে মানুষ ধরে এনে একটা ঘরে ভর্তি করে। যখন মোটামুটি মানুষ আনা শেষ হলো তখন ওরা চেয়ারম্যান সাহেবকে নিয়ে আসলো। তাকে বলল ভাল-মন্দ লোক বাছাই করে দিতে হবে। পাকিস্তানিদের চেহারা দেখে চেয়ারম্যান ভয়ে কাঁপতে লাগলেন। ওরা তাঁকে বলল - এর মধ্যে কি খারাপ লোক আছে? চেয়ারম্যান দুইবার ঘুরে এসে বললেন এরমধ্যে কোন খারাপ লোক নাই। সবাই ভাল। উনি বসার পরে সুলতানপুরের আবুবক্কর মওলানাকে ঐ দায়িত্ব দেয়া হলো। তিনি ঘুরে ফিরে দেখে এসে একই রকম উত্তর দিলেন।

তখন পাকিস্তানি এক সেনা সদস্য বেতের ছড়ি দিয়ে মওলানাকে পিঠে কয়েকটা আঘাত করল। ঐ মারের কিছুটা গিয়ে পড়ল শমেস মাস্টারের উপর। রাগ করে পরে ওরা নিজেরাই বাছাই শুরু করল। প্রথমে বাছাই করে আলাদা জায়গায় বসালো। তারপর শুরু করল ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে হিন্দু মুসলমান বাছাই। তারা বাছাই করা মানুষদের হাত শক্ত করে বাঁধলো। হাত বাঁধা অবস্থায় আমাদের মাঝখানে রেখে হানাদার ও তাদের দোসর রাজাকাররা আমাদের দুইপাশে থাকলো, আর লুট করা গরু ও মালামাল পিছনে। ওইভাবে চতরা ঘোড়াঘাট রাস্তা দিয়ে দক্ষিণে চলা শুরু করল। রামচন্দ্রপুরের কাছে গিয়ে ওরা থেমে গেল। আমাদের নিয়ে গেল উঁচু ভিটায়। পাশেই ডোবার মত পুকুর। সারি করে বসালো সকলকে।

তারপর শুরু হলো মানুষকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে মারার প্রতিযোগিতা। তিনজনের পর আমাকে কোপ দিল। যখন ঘাড়ে রামদার কোপ মারল, তখন চোখমুখ অন্ধকার করে পড়ে গেলাম। একজন টাক মাথার খাটো লোক আমাকে দা দিয়ে কোপায়। ওইভাবে ৫-৭ জন মানুষ মারা দেখে জীবন বাঁচাতে মানুষগুলো হাতবাঁধা অবস্থাতেই ছোটাছুটি শুরু করলো। তখনই পাকিস্তানি সেনারা এলোপাতাড়ি গুলি চালালো। আমার গোটা শরীর মানুষের লাশের নীচে পড়ে গেল।

যখন আমার একটু জ্ঞান ফিরছে তখন মনে হলো আমার শরীরের উপর অনেকগুলো কাঠ রাখা হয়েছে। শরীরের রক্ত পড়ে অবশ হয়ে গেছে। আল্লাহপাক জানে কীভাবে ওই লাশ ঠেলে উঠে দাঁড়ালাম। দাঁড়িয়ে দেখি আমরা যেমন পাট কেটে স্তুপ করে রাখি তেমনি পুকুরে মানুষ মেরে স্তুপ করা হয়েছে। একটু আড়াল হওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু পরে মনে হল এখানে থাকা যাবে না। আবার যদি ওরা ফিরে আসে তবে আর বাঁচাবে না। তখন শরীরটাকে টেনে হেঁচড়ে বাঁশের ঝাড় আর পাটের জমির আড়াল দিয়ে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে গেলাম।

ভয়ে ভয়ে শুক্রবার জুমার নামাজের মানুষ আসা শুরু হয়েছে। আকবর নামে এক লোক আমার রক্তাক্ত দেহটা ধরার পরে আমি জ্ঞান হারাই। গ্রামে তো ডাক্তার নাই। চারদিন বাড়ির লোকজনের সেবায় ঐ অবস্থায় থাকলাম। চারদিন পর রাত ১২টার সময় নদীর ওপার থেকে রহমান ডাক্তারকে নিয়ে আসা হলো। সেলাই দিতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন ডাক্তার। ঔষধপত্র দিয়ে দুই মাসে আমার ক্ষতস্থান শুকালো। দুবেলা চিকিৎসা চলেছে। অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলাম। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেও আজ পর্যন্ত সরকারি কোন সহায়তা পেলাম না।

- সাগীর আলী শেখ, পলাশবাড়ীর কাশিয়াবাড়ী গণহত্যায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি।

অনুলিখন: জহুরুল কাইয়ুম।

 

কেআরআর/জিএআই



Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ছবি সংবাদ

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ফটো গ্যালারী

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ফটো ফিচার

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ভিডিও গ্যালারী

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

বিভাগ ভিডিও রিপোর্ট

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

সর্বশেষ খবর

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image

Gaibandha.news Ad. image

Gaibandha.news Ad. image

Gaibandha.news Ad. image


Gaibandha.news Ad. image

গল্প-প্রবন্ধ-নিবন্ধ

মতামত-বিশ্লেষণ

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

কৃষি-বিজ্ঞান

স্বাস্থ্য-চিকিৎসা

সাজসজ্জা

রান্নাবান্না

ভ্রমণ-বিনোদন

চারু-কারুকলা

শিশুকিশোর

ইভেন্ট ফটো গ্যালারী

Gaibandha.news Ad. image

ইভেন্ট ভিডিও গ্যালারী

Gaibandha.news Ad. image

আর্কাইভ

SunMonTueWedThuFriSat
1

2

3

4

5

6

7

8

9

10

11

12

13

14

15

16

17

18

19

20

21

22

23

24

25

26

27

28

29

30

31

Gaibandha.news Ad. image

ইভেন্ট বোর্ড

খোঁজখবর - চাকুরি বিঞ্জপ্তি

Gaibandha.news Ad. image

খোঁজখবর - টেন্ডার বিঞ্জপ্তি

Gaibandha.news Ad. image

খোঁজখবর - বেচাকেনা

জরীপ/ভোটাভুটি (হাঁ/না)

Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Gaibandha.news Ad. image
Activities

© 2020 Gaibandha.News. All rights reserved. Inspired by w3schools.com

Crafted with by arccSoftTech & Powered with CSR by arccY2K.com a Subsidiary of BangladeshICT.com